সন্দেহজনক দাম বেড়েছে পাঁচ ফুটবলারের, ‘চক্রান্ত’ ঠেকাতেই রিভিউর সিদ্ধান্ত অঞ্জন মিত্রর

কলকাতা: মঙ্গলবার মোহনবাগানের সচিব অঞ্জন মিত্র জানিয়েছেন, কয়েকজন ফুটবলারের চুক্তি রিভিউ করা হবে ক্লাবের পক্ষ থেকে। আঁরা যদি কম টাকায় খেলতে রাজি না হন, তাহলে ক্লাব তাঁদের ছেড়ে দেব। সচিবের এই ঘোষণায় হাহাকার পড়ে গেছে সদস্য-সমর্থকদের মধ্যে। কারণ ওই ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন ডিকা-কিংসলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিদেশিরা। কিন্তু কেন হঠাৎ এমন ঘোষণা করলেন সচিব?

সচিবের মনে হয়েছে ৬ জন ফুটবলার গত মরশুমে যত টাকা পেয়েছিলেন, সেই তুলনায় অস্বাভাবিক বাডা়নো হয়েছে এবার। দেবাশিস-সৃঞ্জয় সহ পাঁচ জনের দল তৈরির কমিটি এই কাজ করেছেন সচিবকে চাপে ফেলতেই। কারণ, ফুটবলারদের টাকা জোগাড়ের দায়িত্ব নিতে হবে সচিব সহ বর্তমান কমিটিকে। পাঁচ জনের যে কমিটি ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাঁরা ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতিতে সচিবের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর অংশ। তাঁরা কর্মসমিতি থেকে পদত্যাগও করেছেন। চক্রান্তর পাশাপাশি ওই অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর পেছনে চক্রান্তের পাশাপাশি দুর্নীতিরও গন্ধ পাচ্ছেন সচিব।

ওই পাঁচ ফুটবলার ছাড়াও সমস্যা রয়েছে শিলটন পালের চুক্তি নিয়েও। গত মরশুমে শিলটন পেয়েছিলেন ৩৫ লক্ষ টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু ইতিমধ্যেই শিলটনের সঙ্গে কথা বলে সচিব বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া অবিনাশ রুইদাসকে সই করানো হয়েছে ৩৬ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকায়। সেই চুক্তিও রিভিউ করা হবে।

এবার দেখে যাক, কোন সেই পাঁচ ফুটবলার, যাদের নিয়ে সমস্যা-

  • ডিকা- গতবার পেয়েছিলেন ৪০ লক্ষ টাকা। এবার চুক্তি হয়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায়।
  • কিংসলে- গতবার পেয়েছিলেন ৩৩লক্ষ টাকা। এবার চুক্তি হয়েছে ৭৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায়।
  • কিনোয়াকি- গতবার পেয়েছিলেন ৪৪ লক্ষ টাকা। এবার চুক্তি হয়েছে ৭৫ লক্ষ টাকায়।
  • অরিজিত বাগুই- গতবার পেয়েছিলেন ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এবার চুক্তি হয়েছে ২৩ লক্ষ টাকায়।
  • শঙ্কর রায়- গতবার পেয়েছিলেন ৮ লক্ষ টাকা। এবার চুক্তি হয়েছে ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায়।

এখন প্রশ্ন হল, চুক্তি একবার করে ফেলে তারপর বাতিল করলে ফুটবালাররা ফিফায় চলে গিয়ে ক্লাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সচিব আত্মবিশ্বাসী, তিনি এই ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে নিতে পারবেন। কারণ মোহনবাগানও নানা ফিকির করে ফিফায় বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের একটা মরশুম মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তাই সচিবের ধারণা, তিনি এই পাঁচ ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কম টাকায় খেলতে রাজি করিয়ে নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *