ট্রান্স হিমালয়ে প্রথম সফল সাইকেল অভিযান, বিশ্বরেকর্ড চন্দন বিশ্বাসের

ওয়েবডেস্ক: সমতল নয়, রাস্তাটা ট্রান্স হিমালয়ের। ১৫৩ দিনে সেই পথ পাড়ি দেওয়া সাইকেলে। গল্প নয়, এটাই সত্যি। ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বাংলার ছেলে চন্দন বিশ্বাস। সাইকেলে চেপে ট্রান্স হিমালয়ে সফল ভাবে এতটা দূরত্ব অতিক্রম করার নজির আগে কেঊ গড়েছেন কি না জানা নেই। খারদুং লা গিরিবর্ত্ম পেরিয়ে মঙ্গলবার নুবরা উপত্যকার হুন্ডার গ্রামে অভিযান শেষ হয় বছর একত্রিশের চন্দনের।


৬২৪৯ কিলোমিটার রাস্তায় সাইকেল নিয়ে তিনি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশ। অভিযানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ছিল ‘সোনারপুর আরোহী’। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ত্রিপুরা-নাগাল্যান্ড-অরুণাচলপ্রদেশ-মেঘালয়-অসম-ভুটান-সিকিম-নেপাল-উত্তরাখণ্ড-হিমাচল প্রদেশ হয়ে জম্মু কাশ্মীরে অভিযান শেষ করেন হৃদয়পুরের এই তরুণ। পাঁচ মাসের অভিযানের শেষ দিকে ক্রমশ দুর্গম হয়েছে পথ, চলার পথে বেড়েছে নানা প্রতিকূলতা। খারদুং লা (পৃথিবীর উচ্চতম যানচলাচল-যোগ্য গিরিবর্ত্ম) ছাড়াও পেরোতে হয়েছে কুনজুম, তাংলাং লা-র মতো বিপজ্জনক সব পাস। কোথাও একটা গোটা দিনের মধ্যে ঘাড়ে সাইকেল নিয়ে পেরোতে হয়েছে খান পনেরো ঝোরা। কোথাও বা ধস নামা পাহাড়ি রাস্তা থেকে প্রাণ হাতে নিয়ে সাইকেল-সমেত নিজেকে বাঁচানো।

১৯৮০ সালে বিদ্যুৎ সরকার (অ্যাডভেঞ্চার দুনিয়ায় যিনি বেশি জনপ্রিয় ছোড়দা নামে) পায়ে হেঁটে এই পথ অতিক্রম করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে বাচেন্দ্রি পালের নেতৃত্বে মহিলা অভিযাত্রীদের একটি দল ট্রান্স হিমালয় অভিযান করেন। ২০১৩ সালে রাজীব মণ্ডল ওই একই পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন। সাইকেলে ভর করে এর আগে একাধিকবার ট্রান্স হিমালয় অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযান সম্পূর্ণ করেছেন, এখনও পর্যন্ত এমন দাবি কেউ করেননি।


পেশায় আলোকচিত্র শিল্পী চন্দন অভিযান শেষে পৌঁছেছেন কাশ্মীরের লেহ তে। বুধবার সেখান থেকেই কথা হয় খবর অনলাইনের প্রতিনিধির সঙ্গে।  জানালেন ট্রান্স হিমালয় অভিযানের প্রস্তুতিপর্ব ছিল বেশ লম্বা। অভিযানের পথ সম্পর্কে রীতিমতো গবেষণা করতে হয়েছে টানা এক বছর। তিনটি দেশ এবং দেশের ভেতর ৬ টি রাজ্য নিয়ে বিস্তর পড়াশোনার প্রয়োজন হয়েছিল। এছাড়া কোথায় কখন পৌঁছতে হবে, সেই ব্যাপারে অভিজ্ঞদের পরামর্শ খুবই কাজে লেগেছে তাঁর। পথের মানচিত্র চেনাতে বিশিষ্ট মানচিত্র বিশারদ ত্রিদিবকুমার বসুর অবদান অনস্বীকার্য, ফোনে সে কথা জানাতেও ভোলেননি চন্দন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *