Loan

আচমকা বিপদে পড়ে ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের ইএমআই জমা কঠিন হয়ে দাঁড়ালে কী করবেন?

ওয়েবডেস্ক: প্রথমেই বলে রাখা দরকার- এমনটা না হওয়াই ভালো। তবে ঘটে গেলে কী করা যাবে, সেটা অবশ্যই জেনে রাখা ভালো।

আয় যখন নিয়মিত তখন চাহিদা মেটাতে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে একটা মাথা গোঁজার স্থায়ী জায়গা কিনে নেওয়া হল। সেটা হতে পারে ফ্ল্যাট বা বাড়ি। কিন্তু যদি দুর্ঘটনাবশত, সেটা কেনার কিছু দিন পর নিয়মিত সেই আয়ের জায়গাটি হারিয়ে যায়? ব্যবসা হোক বা চাকরি- চলে মন্দার শিকার হয়! তখন কী করা যাবে?

ব্যাঙ্ক কিন্তু সব সময়ই চায়, গ্রাহককে দেওয়া ঋণের টাকা পুনরুদ্ধার করতে। ঋণের টাকায় যে ফ্ল্যাট বা বাড়িটি গ্রাহকের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া মোটেই ব্যাঙ্কের লক্ষ্য নয়। ফলে এ ধরনের কোনো ঘটনার শিকার হয়ে ব্যাঙ্কের ইএমআই জোগাড় কঠিন হয়ে গেলে সে সব কথা বিশদে জানাতে হবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে। প্রাথমিক ভাবে মনে হতে পারে, ব্যাপারটা কাল্পনিক, কিন্তু বাস্তবে এমন নজির অনেক রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের কাছে ঋণপরিশোধের যে সহজ রাস্তাগুলি রয়েছে-

১. প্রথমত ঋণগ্রহীতা ব্যাঙ্কের কাছে ঋণ পরিশোধ কাঠামো পুনর্গঠনের আবেদন জানাতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে হয়তো ঋণ পরিশোধের মোট সময়সীমা ছিল ২০ বছর। ব্যাঙ্কের গ্রাহকের অসুবিধার কথা বুঝে সেই মেয়াদ ৩০ বছরে রূপান্তরিত করলেও করতে পারে। পুরোটাই নির্ভর করছে পরিস্থিতি এবং গ্রাহকের অতীত রেকর্ডের উপর।

স্বাভাবিক ভাবেই এ ভাবে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকার কিস্তি নেমে যেতে পারে মাসিক ৬ হাজার টাকাতেও। সে ক্ষেত্রে দুর্দিনে এই কিস্তির পরিমাণ হ্রাস অনেকটাই কাজে লাগবে।

২. ইএমআই বিলম্বিতিকরণের নজিরও একেবারে নেই বললে ভুল হবে। নিজের অসুবিধার কথা জানানোর পর গ্রাহকের অতীত পেমেন্ট রেকর্ড যদি সুবিধাজনক মনে হয়, সে ক্ষেত্রে আবেদনের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক ইএমআই বিলম্বিতকরণ করতে পারে। আবার এককালীন পেমেন্টের সুযোগও দিতে পারে। কয়েকটি ব্যাঙ্ক এ সব ক্ষেত্রে গ্রাহকের অসুবিধার কথা ভেবে ইএমআই হ্রাস করে প্রিপেড ভিত্তিতে ইএমআই জমা করার সুবিধা-সহ।

অর্থাৎ, সেই একটি বিষয়ই মনে রাখার বিষয়, ব্যাঙ্ক কিন্তু কখনোই ঋণের টাকায় কেনা সম্পদে হাত দিতে চায় না, গ্রাহককে দেওয়া টাকা আদায়ই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *